আবহাওয়া

শেখানোয় বড় গলদ, ৫৭ শতাংশ স্কুলে পাঠের সঙ্গে উপকরণের মিল নেই

প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন
f

পুরান ঢাকার ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞানের ক্লাস। ১৯ আগস্ট শিক্ষার্থীদের ‘বিভব শক্তির সংরক্ষণশীলতা’ বোঝাতে শ্রেণিকক্ষে সরল দোলক ব্যবহার করছিলেন সহকারী শিক্ষক আবদুল্লাহ আল নাহিয়ান। দোলকের দোলন দেখিয়ে তিনি বোঝাচ্ছিলেন, শক্তির রূপান্তর ও সংরক্ষণশীলতার বিষয়টি।

শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পারছিল সহজেই। শিক্ষক আবদুল্লাহ আল নাহিয়ানের মতে, পাঠের সঙ্গে মিল রেখে সঠিক শিখন উপকরণ ব্যবহার করলে কঠিন বিষয়ও শিক্ষার্থীদের কাছে সহজ হয়ে আসে।

বিজ্ঞাপন In Content Ad

কিন্তু দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর বড় অংশে এমন চিত্র নেই। শ্রেণিকক্ষে উপকরণ থাকলেও তা অনেক ক্ষেত্রে পাঠ্য বিষয়বস্তুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে শিক্ষার্থীরা যে বিষয় শেখার কথা, তা কতটা শিখছে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সাম্প্রতিক পরিদর্শন প্রতিবেদনে এমন উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সারা দেশে ৫ হাজার ৪৩১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৭৪৭টি বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম মনিটরিং (পরিবীক্ষণ) করা হয়।

বিজ্ঞাপন In Content Ad

এসব বিদ্যালয়ের প্রায় ৫৭ শতাংশে ব্যবহৃত শিখন উপকরণ পাঠ্য বিষয়বস্তুর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। শুধু উপকরণের সমস্যাই নয়, শিক্ষার্থীরা কী শিখছে ও শেখার অগ্রগতি কতটা, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থায়ও বড় দুর্বলতা দেখা গেছে। পরিদর্শন করা বিদ্যালয়গুলোর ৫২ শতাংশে ধারাবাহিক মূল্যায়নের রেকর্ড যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয় না।

মাউশির প্রতিবেদনে শিখন উপকরণের ব্যবহার ও ধারাবাহিক মূল্যায়ন—এ দুটি বিষয়কে গুণগত শিখন–শেখানোর প্রক্রিয়ার সবচেয়ে দুর্বল দিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মাউশি পরিদর্শন প্রতিবেদন বলছে, ২ হাজার ৭৪৭টি বিদ্যালয়ের প্রায় ৫৭ শতাংশে ব্যবহৃত শিখন উপকরণ পাঠ্য বিষয়বস্তুর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। শুধু উপকরণের সমস্যাই নয়, শিক্ষার্থীরা কী শিখছে ও শেখার অগ্রগতি কতটা, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থায়ও বড় দুর্বলতা দেখা গেছে। পরিদর্শন করা বিদ্যালয়গুলোর ৫২ শতাংশে ধারাবাহিক মূল্যায়নের রেকর্ড যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয় না।

শিক্ষক ও শিক্ষা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু শিখন উপকরণের ঘাটতি নয়, শ্রেণিকক্ষে সেগুলোর যথাযথ ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ। উপকরণ পাঠ্য বিষয়বস্তুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বুঝতে সমস্যা হয়। এতে কাঙ্ক্ষিত শিখনফল অর্জিত না হয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিখনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।