প্রযুক্তি

স্পেসএক্সের রকেট আছড়ে পড়বে চাঁদে, তৈরি হবে বিশাল গর্ত

প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন
f

মহাকাশের অসীম শূন্যতায় ভেসে বেড়ায় অজস্র কৃত্রিম বস্তু। মহাশূন্যের এই অজানা রহস্যের মধ্যে মানুষের তৈরি বর্জ্যও নতুন করে সংকট তৈরি করছে। ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি একটি পরিত্যক্ত রকেট আগামী সপ্তাহে চাঁদের গায়ে আছড়ে পড়বে বলে জানা গেছে। রকেটটি শব্দের গতির চেয়ে সাত গুণ বেশি গতিতে চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে চাঁদের গায়ে একটি বিশাল গর্ত তৈরি হবে।

বিজ্ঞাপন In Content Ad

মহাকাশ–বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পেসএক্সের রকেটটি চাঁদের আলোকিত অঞ্চলের আইন্সটাইন ক্রেটারের কাছে আছড়ে পড়বে। প্রায় এক বছর আগে দুটি লুনার ল্যান্ডার উৎক্ষেপণের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল রকেটটি। সংঘর্ষের আলোর ঝলকানি এক সেকেন্ডের কম সময় স্থায়ী হবে। ফলে এটি সাধারণ চোখে দেখা বেশ কঠিন হবে। তবে সংঘর্ষের পর তৈরি হওয়া ধুলাবালু মহাকাশে কয়েক মাইল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে টেলিস্কোপে সেই দৃশ্য ১০ মিনিট পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যেতে পারে। প্রসঙ্গত, চাঁদে আছড়ে পড়া দ্বিতীয় পরিত্যক্ত রকেট হতে যাচ্ছে স্পেসএক্সের রকেটটি। ২০২২ সালে চীনের একটি পরিত্যক্ত রকেট চাঁদের অপর পাশে আছড়ে পড়েছিল।

বিজ্ঞাপন In Content Ad

লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফার্নান্দো বলেন, চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কম। ধুলা উড়িয়ে দেওয়ার মতো কোনো বাতাস সেখানে নেই। আমাদের এই ঘটনার প্রতি আগ্রহের বড় কারণ হলো বর্জ্যের আঘাত ভবিষ্যতের নভোচারীদের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা বুঝতে পারা। তৈরি হওয়া গর্ত প্রায় ৯০ ফুট চওড়া হতে পারে। এটি গভীরতায় হতে পারে ১৬ ফুট। পৃথিবী থেকে দৃশ্যটি সরাসরি দেখা না গেলেও মহাকাশযান থেকে স্পষ্ট দেখা যাবে।

নাসার লুনার রিকনিসান্স অরবিটার ও দক্ষিণ কোরিয়ার দানুরি লুনার অরবিটার দুর্ঘটনাস্থলের আগের ও পরের ছবি সংগ্রহ করবে। ফার্নান্দো ও তাঁর দল জানান, সংঘর্ষের ঠিক দুই মিনিট আগে দানুরি মহাকাশযানটি স্পেসএক্সের রকেটের মাত্র এক থেকে দুই মাইলের মধ্যে অবস্থান করবে।